বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক রাষ্ট্রবিজ্ঞান সিলেবাস

Vidyasagar University – UG Political Science Syllabus

  • MJ-2: ভারতে সাংবিধানিক সরকার — সম্পূর্ণ সিলেবাস
  • দ্বিতীয় সেমেস্টার 
  • ক্রেডিট ০৪ 
  • পূর্ণমান: ৭৫ (৬০ লিখিত পরীক্ষা + ১৫ IA/CA)

বিভাগ – ক (Group A)

১. ভারতীয় সংবিধানের বিবর্তন: গণপরিষদের ভূমিকা; সংশোধনী ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানের বিকাশ
২. ভারতীয় সংবিধানের দর্শন: প্রস্তাবনার তাৎপর্য
৩. ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
৪. মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য; রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি

বিভাগ – খ (Group B)

৫. শাসন বিভাগ: রাষ্ট্রপতি; প্রধানমন্ত্রী; রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী
৬. আইনসভা: কেন্দ্রীয় ও রাজ্য আইনসভা
৭. বিচার বিভাগ: সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট
৮. ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক — সরকারিয়া কমিশনের সুপারিশ

ইউনিটভিত্তিক বিষয়বস্তুর আলোচনা 

এই কোর্সটি মূলত ভারতের সংবিধানের উৎপত্তি, দর্শন এবং এর কার্যপ্রণালী সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের একটি সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য নিচে প্রতিটি অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তুর একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:

গ্রুপ-এ: সংবিধানের পটভূমি, দর্শন ও অধিকার

১. ভারতীয় সংবিধানের বিবর্তন ও গণপরিষদের ভূমিকা: 

এই ইউনিটে আলোচিত হবে কীভাবে ভারতীয় সংবিধান তৈরি হয়েছিল। এখানে গণপরিষদের গঠন, এর আলোচনা-প্রক্রিয়া, বিভিন্ন মত ও বিতর্ক এবং স্বাধীনতার পর সংবিধান কীভাবে গৃহীত হয় সে সম্পর্কে আমরা জানতে পারবো। পাশাপাশি সংবিধানের প্রধান সংশোধনীগুলির (যেমন প্রথম, ৪২তম, ৪৪তম, ৭৩তম, ৭৪তম প্রভৃতি) মাধ্যমে ভারতীয় শাসনব্যবস্থার ধাপে ধাপে পরিবর্তন এবং সুপ্রিম কোর্টের পুনর্বিবেচনা (review)-এর ধারণাও আমাদের আলোচনায় স্থান পাবে।

২. ভারতীয় সংবিধানের দর্শন: প্রস্তাবনার তাৎপর্য

প্রস্তাবনা (Preamble) হলো ভারতীয় সংবিধানের আত্মা ও দর্পণ। ভারত যে একটি ‘সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সাধারণতন্ত্র’—এই মূল আদর্শ এবং নাগরিকদের ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের যে প্রতিশ্রুতি প্রস্তাবনায় দেওয়া হয়েছে, তার আইনি ও রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারবো। 

৩. ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হিসেবে ভারতীয় সংবিধানের কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য এখানে পড়ানো হবে — যেমন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, এক নাগরিকত্ব, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নমনীয়তা ও অনমনীয়তার সমন্বয়, জরুরি অবস্থার বিধান ইত্যাদি। এছাড়াও সংবিধানের “মৌলিক কাঠামো” বা ‘Basic Structure’-এর ধারণার সাথেও আমরা পরিচিত হব।

৪. মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য; রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি:

এই অধ্যায়ের শুরুতে ভারতের সংবিধানের তৃতীয় অংশে বর্ণিত ছয়টি Fundamental Rights বা মৌলিক অধিকার (সমতা, স্বাধীনতা, শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংস্কৃতি ও শিক্ষার অধিকার, সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার) সমূহের প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা এবং বিচার বিভাগীয় ব্যাখ্যা পড়ানো হবে। এর পাশাপাশি ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে  PART-IV-A অংশে যুক্ত হওয়া মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties) এবং চতুর্থ অংশে বর্ণিত নির্দেশমূলক নীতিগুলির (DPSP) প্রকৃতি ও ভূমিকা সম্পর্কেও আমরা জানতে পারবো ।

গ্রুপ-বি: শাসনকাঠামো, আইনসভা, বিচারব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক

৫. শাসন বিভাগ (The Executive): ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থায় দু’ধরনের প্রধান থাকেন। কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি হলেন নামসর্বস্ব বা নিয়মতান্ত্রিক প্রধান (Titular Head), আর প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রকৃত শাসক (Actual l Head)। রাজ্য স্তরেও রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে অনুরূপ সম্পর্ক বিদ্যমান। এই অধ্যায়ে পূর্বে উল্লেখিত পদসমূহের ক্ষমতা, কার্যাবলী ও পারস্পরিক সম্পর্ক  আলোচিত হবে।যথা — রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ও জরুরি অবস্থাকালীন ক্ষমতা, প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদ ব্যবস্থায় নেতৃত্ব, রাজ্যপালের সাংবিধানিক ও বিবেচনামূলক ভূমিকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর রাজ্যস্তরের প্রশাসনে ভূমিকা।

৬. আইনসভা (Legislatures): কেন্দ্রীয় আইনসভা বা সংসদের দুটি কক্ষ—লোকসভা (নিম্নকক্ষ) ও রাজ্যসভা (উচ্চকক্ষ)। এদের গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলী তথা আইন প্রণয়ন পদ্ধতি, সংসদীয় অধিবেশন, বাজেট অধিবেশন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ টপিক বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এই ইউনিটে । 

৭. বিচার বিভাগ (The Judiciary): ভারতের একটি অখণ্ড বা সুসংহত বিচারব্যবস্থা (Integrated Judicial System) রয়েছে, যার শীর্ষে অবস্থান করছে সুপ্রিম কোর্ট এবং রাজ্যে রয়েছে হাইকোর্ট। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগীয় সক্রিয়তা (Judicial Activism) এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আদালতের ভূমিকা ইত্যাদি এই ইউনিটের আলোচনার বিষয়। 

৮. ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও সরকারিয়া কমিশনের সুপারিশ: 

ভারতের “সহযোগমূলক যুক্তরাষ্ট্রবাদ”-এর ধারণা, কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে আইন ও প্রশাসনিক সম্পর্ক এবং আর্থিক সম্পর্ক এখানে বোঝানো হবে। এছাড়াও ১৯৮৩ সালে গঠিত সরকারিয়া কমিশনের সুপারিশগুলো (যেমন- আর্টিকেল ৩৫৬-এর অপব্যবহার রোধ, আন্তঃরাজ্য পরিষদ গঠন, কেন্দ্র-রাজ্য আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ইত্যাদি) এই অধ্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Scroll to Top