Vidyasagar University Minor-1 Political Science Syllabus -
ভারতের জাতীয়তাবাদ এবং উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন
(Nationalism and Anti-colonial Movements in India)
বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Vidyasagar University) স্নাতক প্রথম সেমিস্টারের রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর-১ (Minor-1 Political Science) কোর্সের সম্পূর্ণ সিলেবাস এবং তার সহজ পাঠ-বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো। তোমাদের সুবিধার্থে প্রথমে অফিশিয়াল সিলেবাসের তালিকা এবং পরে প্রতিটি অধ্যায়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা আলোচনা করা হয়েছে।
গ্রুপ - এ (Group A)
ইউনিট ১: ভারতে জাতীয়তাবাদ চর্চার বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি: সাম্রাজ্যবাদী ও জাতীয়তাবাদী
ইউনিট ২: ভারতীয় জাতীয়তাবাদের মার্কসবাদী ও উত্তর-উপনিবেশবাদী ব্যাখ্যা
ইউনিট ৩: ঔপনিবেশিক ভারতে প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনসমূহ
ইউনিট ৪: ভারতে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পর্যায়সমূহ: নরমপন্থী, চরমপন্থী, স্বদেশী এবং বিপ্লবী ধারা
গ্রুপ - বি (Group B)
ইউনিট ৫: গান্ধীজি এবং গণ-রাজনীতির পর্যায়সমূহ: অসহযোগ, আইন অমান্য এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলন
ইউনিট ৬: ভারতের কৃষক, উপজাতি ও শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন
ইউনিট ৭: জাতিভেদ প্রশ্ন ও ব্রাহ্মণতন্ত্র-বিরোধী রাজনীতি; ভারতের জাতীয় আন্দোলনে নারী
ইউনিট ৮: সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন: দ্বি-জাতি তত্ত্ব এবং ভারতের দেশভাগ
সিলেবাসের সহজ সরল বিশ্লেষণ ও আলোচনার বিষয়বস্তু
গ্রুপ - এ (Group A)
ইউনিট ১: জাতীয়তাবাদ চর্চার দৃষ্টিভঙ্গি (সাম্রাজ্যবাদী ও জাতীয়তাবাদী)
ইতিহাস তো কেবল একমুখী হয় না! ব্রিটিশ ঐতিহাসিকরা (সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি) মনে করতেন, ভারত কোনোদিনও একক জাতি ছিল না। তাদের দাবি ছিল, ব্রিটিশ শাসনই ভারতকে এক করেছে। অন্যদিকে, আমাদের দেশীয় চিন্তাবিদরা (জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি) দেখালেন যে, ভারতের একতা বহু প্রাচীন এবং ব্রিটিশদের শোষণই সমস্ত ভারতীয়কে একতাবদ্ধ হয়ে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছিল। এই অধ্যায়ে আমরা এই দুই বিপরীতমুখী চিন্তার লড়াই বুঝবো।
অধ্যায় - ২: মার্কসবাদী ও উত্তর-উপনিবেশবাদী ব্যাখ্যা
জাতীয়তাবাদকে বোঝার আরও দুটি আধুনিক চশমা এটি।
মার্কসবাদী ধারা: এই ধারা বিশ্লেষণ করে যে, স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধুমাত্র ভাবাবেগ ছিল না, এর পেছনে ছিল বিভিন্ন শ্রেণির (যেমন কৃষক, শ্রমিক বনাম বুর্জোয়া বা ধনী ব্যবসায়ী) অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্ব।
উত্তর-উপনিবেশবাদী ধারা: ব্রিটিশরা চলে যাওয়ার পর আমরা কীভাবে আমাদের ইতিহাসকে পশ্চিমি প্রভাবমুক্ত করে একদম ভারতীয় মনন ও সংস্কৃতি দিয়ে নতুন করে বুঝতে শিখছি, তা এই অংশে আলোচিত হয়।
অধ্যায় - ৩: সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনসমূহ
রাজনৈতিক স্বাধীনতার আগে সামাজিক স্বাধীনতার প্রয়োজন ছিল। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ বা জ্যোতিরাও ফুলের মতো সমাজসংস্কারকরা কীভাবে সতীদাহ প্রথা রদ, বিধবা বিবাহ চালু, নারী শিক্ষা এবং জাতপাতের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তা এই চ্যাপ্টারের মূল বিষয়। সমাজ সংস্কারই মূলত ভারতীয়দের মনে আত্মসম্মানবোধ তৈরি করে প্রতিবাদের প্রথম ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।
অধ্যায় - ৪: জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রথম তিন দশক
ব্রিটিশদের তাড়ানোর জন্য আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা কী কী পথ বেছে নিয়েছিলেন?
নরমপন্থী ধারা: যাঁরা আইনি সীমার মধ্যে থেকে আবেদন-নিবেদনের মাধ্যমে অধিকার পেতে চেয়েছিলেন।
চরমপন্থী ধারা: লাল-বাল-পাল-এর হাত ধরে শুরু হওয়া স্বরাজ অর্জনের অনমনীয় জেদ।
স্বদেশী আন্দোলন: বিদেশী পণ্য বয়কট ও দেশী শিল্পের গোড়াপত্তন।বিপ্লবী ধারা: খুদিরাম বসু থেকে শুরু করে মাস্টারদা সূর্য সেনের মতো বিপ্লবীদের সশস্ত্র ও বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইতিহাস।
গ্রুপ - বি (Group B)
অধ্যায় - ৫: মহাত্মা গান্ধী ও গণ-আন্দোলনের যুগ
এই অধ্যায়ে আমরা দেখবো কীভাবে একজন মানুষ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকে ড্রয়িংরুমের রাজনীতি থেকে বের করে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের স্পন্দনে পরিণত করলেন। গান্ধীজির তিনটি প্রধান আন্দোলনের দর্শন ও প্রভাব আমরা এখানে বিশদে জানবো:
A. অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২): অহিংস উপায়ে ব্রিটিশদের প্রশাসনিক যন্ত্র অচল করে দেওয়া।
B. আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০): ডান্ডি অভিযানের মাধ্যমে নুনের এক মুঠো মাটি তুলে আইন অমান্যের ডাক।
C. ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২): দেশের শেষ ও সবচেয়ে বড় গণ-আন্দোলন, যেখানে মন্ত্র ছিল—"করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে"।
অধ্যায় - ৬: কৃষক, উপজাতি ও শ্রমিক আন্দোলন
সাধারণত ইতিহাস বইতে আমরা কেবল বড় নেতাদের কথাই পড়ি। কিন্তু এই অধ্যায় আমাদের নিয়ে যাবে মাটির কাছাকাছি। সাঁওতাল বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, কোল বিদ্রোহের মতো প্রান্তিক উপজাতি ও কৃষকদের লড়াই এবং মিল-কারখানার শ্রমিকদের অধিকারের দাবি কীভাবে শক্তিশালী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তা এখানে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়।
অধ্যায় - ৭: জাতপাতের প্রশ্ন ও নারী সমাজ
ভারতীয় সমাজের ভেতরের দুটি বড় সত্য নিয়ে এই অধ্যায়ের পথচলা।
A. দলিত আন্দোলন: ড. বি. আর. আম্বেদকরের নেতৃত্বে দলিত ও অনগ্রসর মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারের লড়াই।
B. নারী সমাজের অবদান: সরোজিনী নাইডু, মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো নারীরা কীভাবে ঘরের চার দেওয়াল ভেঙে দেশমাতৃকার বন্দনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
অধ্যায় - ৮: সাম্প্রদায়িকতা, দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও দেশভাগ
এটি ভারতের স্বাধীনতা ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়। কেন ও কীভাবে ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা রাষ্ট্রের ধারণা বা "দ্বি-জাতি তত্ত্ব" তৈরি হলো? রাজনৈতিক স্বার্থ ও সাম্প্রদায়িক ভুল বোঝাবুঝি কীভাবে শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে বাংলা ও পাঞ্জাবভাগের মতো রক্তক্ষয়ী ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতিতে গিয়ে পৌঁছাল, তার নির্মোহ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রয়েছে এই অধ্যায়ে।
