বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় UG 2nd Sem VAC 02 হিউম্যান রাইটস / মানবাধিকার কোর্সের বিগত বছরের সেমিস্টার পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর
(Vidyasagar University VAC 2 Human Rights Solved PYQ)
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন (PYQ) সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময়ই আগের বছরের প্রশ্ন পরীক্ষায় পুনরাবৃত্তি (repeat) হয়।
নিচে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভ্যালু অ্যাডেড কোর্স’ (VAC 2) – মানবাধিকার বা Human Rights পেপারের পূর্ববর্তী সেমিস্টারান্তিক (Semester End) পরীক্ষার ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির সহজ ও সঠিক উত্তর দেওয়া হলো।আগামী পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্নোত্তরগুলি মনোযোগ সহকারে পড়ে নেওয়া প্রয়োজন।
প্রশ্নোত্তর (Question-Answer)
VU 2nd Semester Examination 2025
বিভাগ ক – Group A প্রতিটি প্রশ্নের মান ২
১। পৌর অধিকার কী? উত্তর: পৌর অধিকার বা নাগরিক অধিকার (Civil Rights) হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত সেইসব সুযোগ-সুবিধা, যা একজন মানুষের সভ্য, সুন্দর ও সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য। এর মধ্যে জীবনের অধিকার, চলাফেরার স্বাধীনতা, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার অন্তর্ভুক্ত।
২। বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারগুলি কী কী? উত্তর: বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বেঁচে থাকার অধিকার, যেকোনো ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্তির অধিকার, দাসত্ব ও নির্যাতন থেকে মুক্তির অধিকার, স্বাধীনভাবে ধর্মপালন ও মতপ্রকাশের অধিকার এবং শিক্ষার অধিকার।
৩। সমাজের স্থিরতা ও উন্নয়নে মানবাধিকারের ভূমিকা কী? উত্তর: একটি সমাজে শান্তি, স্থিরতা ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো মানবাধিকার। যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ সমান আইনি সুরক্ষা, ন্যায়বিচার এবং কাজের সুযোগ পায়, তখন সামাজিক বিভাজন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব হ্রাস পায়। মানবাধিকারের সুরক্ষা সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশকে মূলস্রোতে নিয়ে আসে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।
৪। মানবাধিকার কাকে বলে? উত্তর: মানবাধিকার হলো সেই সকল মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা বা জন্মস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের জন্মগতভাবে প্রাপ্য। একজন মানুষের সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য এই অধিকারগুলি অপরিহার্য এবং এগুলো রাষ্ট্র বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সহজেই কেড়ে নিতে পারে না।
৫। ভারতীয় মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন্ মানবাধিকার সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হয়? উত্তর: ভারতীয় মহিলাদের ক্ষেত্রে প্রায়শই ‘সমতা ও বৈষম্যহীনতার অধিকার’ এবং ‘মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার’ সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘিত হতে দেখা যায়। এর বাস্তব বহিঃপ্রকাশ ঘটে গার্হস্থ্য হিংসা (Domestic Violence), কর্মক্ষেত্রে অসম বেতন, পারিবারিক সম্পত্তিতে অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং কন্যাভ্রূণ হত্যার মতো ঘটনাগুলির মাধ্যমে।
৬। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র কবে গৃহীত হয়েছিল?উত্তর: মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (Universal Declaration of Human Rights বা UDHR) ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাধারণ সভায় (UN General Assembly) গৃহীত হয়েছিল। এই কারণেই প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর দিনটিকে বিশ্বব্যাপী ‘মানবাধিকার দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
৭। কিশোরদের (juveniles) যে-কোনো দুটি অধিকার উল্লেখ করো। উত্তর: কিশোর বা শিশুদের (Juveniles) দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হলো: ১) শোষণ, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার অধিকার। ২) সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যপরিষেবা পাওয়ার অধিকার।
৮। একজন ভারতীয় নাগরিকের কিছু অর্থনৈতিক অধিকারের উল্লেখ করো। উত্তর: একজন ভারতীয় নাগরিকের অর্থনৈতিক অধিকারগুলির মধ্যে অন্যতম হলো— পর্যাপ্ত জীবিকা অর্জনের অধিকার, নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সমান কাজের জন্য সমান বেতন পাওয়ার অধিকার, এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক পরিবেশ লাভের অধিকার। ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির (Directive Principles of State Policy) অধীনে এই অর্থনৈতিক অধিকারগুলির কথা বলা হয়েছে।
বিভাগ খ – Group B প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫
৯. তুমি কি মনে করো যে ভারতের মানবাধিকার কমিশন একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা? (Do you think that the Human Rights Commission of India is an autonomous body?)
(উত্তর)
ভূমিকা:
১৯৯৩ সালের ‘মানবাধিকার সুরক্ষা আইন’ (Protection of Human Rights Act, 1993) অনুসারে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে ২০১৯ সালে এই আইনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন করে একে যুগোপযোগী করা হয়। সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত জীবন, স্বাধীনতা, সাম্য এবং মর্যাদার অধিকার রক্ষা করাই এর মূল উদ্দেশ্য। আইনগতভাবে এটি একটি স্বাধীন এবং সংবিধিবদ্ধ (Statutory) সংস্থা। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এর স্বায়ত্তশাসন কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বিভিন্ন যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি রয়েছে। যেমন –
স্বায়ত্তশাসনের সপক্ষে যুক্তি (Arguments for Autonomy)
যাঁরা মানবাধিকার কমিশনকে একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা হিসেবে দেখেন তাঁরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেন-
১. স্বাধীন নিয়োগ পদ্ধতি: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন এবং সদস্যদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। তবে এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার স্পিকার, বিরোধী দলনেতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে হয়, যা নিয়োগে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া, ২০১৯ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের অন্য কোনো প্রাক্তন বিচারপতি এই কমিশনের চেয়ারপার্সন হতে পারেন, যা এর বিচারবিভাগীয় দক্ষতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
২. পদের নিরাপত্তা: কমিশনের সদস্যদের সহজে পদচ্যুত করা যায় না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির তদন্ত এবং প্রমাণিত অসদাচরণের ভিত্তিতেই কেবল রাষ্ট্রপতি তাঁদের অপসারণ করতে পারেন। পাশাপাশি, সদস্যদের নির্দিষ্ট মেয়াদ (বর্তমানে ৩ বছর বা ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত, যেটি আগে হবে) তাঁদের সরকারি হস্তক্ষেপ বা শাস্তির ভয় ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।
৩. দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা: তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের একটি দেওয়ানি আদালতের (Civil Court) সমতুল্য ক্ষমতা রয়েছে। তারা যে কাউকে সমন পাঠাতে পারে এবং যেকোনো সরকারি নথি তলব করতে পারে। এই ক্ষমতার প্রয়োগ করে কমিশন প্রায়শই সংবাদপত্র বা মিডিয়ার রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Suo Motu) পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (Custodial death) বা ভুয়ো সংঘর্ষের (Encounter) মতো ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
স্বায়ত্তশাসনের সীমাবদ্ধতা (Limitations to Autonomy)
কিন্তু বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের স্বায়ত্তশাসন বেশ কিছু সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হয়, যে কারণে সমালোচকরা একে “দন্তহীন ব্যাঘ্র” (Toothless Tiger) বলে থাকেন:
১. পরামর্শমূলক অধিকার: কমিশনের সুপারিশগুলো কেবল পরামর্শমূলক (Advisory) প্রকৃতির। সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সুপারিশ মানতে বাধ্য নয়। কমিশন নিজে থেকে দোষীদের কোনো আইনি শাস্তি দিতে পারে না, কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকার এই সুপারিশগুলোকে এড়িয়ে যায়।
২. নিজস্ব তদন্তকারী দলের অভাব: কমিশনের নিজস্ব কোনো বৃহৎ ও স্বাধীন তদন্তকারী দল নেই। তদন্তের জন্য তাদের কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। এর ফলে যখন পুলিশ বা প্রশাসনের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, তখন সেই সরকারি আধিকারিকদের দিয়েই তদন্ত করাতে হয়, যা তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দেয়।
৩. আর্থিক নির্ভরতা: কমিশনকে তার আর্থিক অনুদান এবং বাজেটের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা তাদের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতাকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ণ করে। পর্যাপ্ত আর্থিক স্বাধীনতার অভাবে অনেক সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আকারে মানবাধিকার সচেতনতা বা বড় মাপের গবেষণামূলক কাজ ব্যাহত হয়।
৪. সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা: সশস্ত্র বাহিনীর দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের সরাসরি তদন্ত করার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। জম্মু-কাশ্মীর বা উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো AFSPA (আফস্পা) বলবৎ থাকা অঞ্চলগুলোতে কমিশন সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না; তাদের কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইতে হয় এবং সরকারের উত্তরের জন্যই অপেক্ষা করতে হয়।
৫. সময়ের সীমাবদ্ধতা (One-year Limitation): মানবাধিকার আইনের ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটার এক বছর পার হয়ে গেলে, কমিশন আর সেই ঘটনার তদন্ত করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা দেরিতে অভিযোগ জানালে কমিশন আইনি কারণে অসহায় হয়ে পড়ে।
মূল্যায়ন (Conclusion)
উপরিুক্ত আলোচনা শেষে আমরা একথা বলতে পারি যে, ভারতের মানবাধিকার কমিশন তাত্ত্বিক ও আইনগতভাবে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হলেও, কার্যকরী দিক থেকে এটি সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়। সরকারের উপর আর্থিক নির্ভরতা এবং নিজস্ব তদন্ত কাঠামোর অভাব এর স্বায়ত্তশাসনকে কিছুটা দুর্বল করে দেয়। তবে, দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রকাশ্যে আনা এবং সরকারের ওপর নৈতিক চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে এই স্বাধীন সংস্থাটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। অতীতের গুজরাট দাঙ্গা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রমাণ করে যে এর প্রাসঙ্গিকতা এখনও প্রবল। এর স্বায়ত্তশাসনকে আরও মজবুত করতে হলে এর সুপারিশগুলোকে বাধ্যতামূলক করা এবং নিজস্ব তদন্ত পরিকাঠামো গঠন করা প্রয়োজন।
অবশ্যই দেখুন: Vidyasagar University 2nd Sem VAC 2 (Human Rights) সম্পূর্ণ সিলেবাস ও আলোচনা
